জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ: মহাবিশ্বের শৈশব দেখার জানালা

লিখেছেন BigyanPoka১ মিনিটে পড়ুনমন্তব্য করুন
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ: মহাবিশ্বের শৈশব দেখার জানালা

২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর মহাকাশে পাঠানো হয় জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST)। এটি এখন পর্যন্ত মহাকাশে পাঠানো সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী টেলিস্কোপ। এর কাজ মূলত ইনফ্রারেড বা অবলোহিত আলোতে মহাবিশ্বকে দেখা।

সোনালি আয়নার রহস্য

ওয়েবের প্রধান আয়নার ব্যাস ৬.৫ মিটার। এটি ১৮টি ষড়ভুজাকৃতি খণ্ড দিয়ে তৈরি, প্রতিটি খণ্ড হালকা ধাতু বেরিলিয়ামের ওপর অতি পাতলা সোনার প্রলেপ দেওয়া। সোনা ইনফ্রারেড আলো খুব ভালোভাবে প্রতিফলিত করে, তাই এই রং।

কেন ইনফ্রারেড?

মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে, তাই বহু দূরের ছায়াপথ থেকে আসা আলো যাত্রাপথে প্রসারিত হয়ে লাল দিকে সরে যায়—একে বলে লোহিত সরণ। শত কোটি বছর আগের দৃশ্যমান আলো আজ আমাদের কাছে পৌঁছায় ইনফ্রারেড হিসেবে। তাই মহাবিশ্বের শৈশবের ছায়াপথ দেখতে ইনফ্রারেড চোখ দরকার। ইনফ্রারেড আলো ধূলিমেঘ ভেদ করেও দেখতে পারে, ফলে নক্ষত্রের জন্মস্থানগুলোও স্পষ্ট হয়।

টেনিস কোর্টের সমান ছাতা

ইনফ্রারেড মানে তাপ। টেলিস্কোপ নিজে গরম হলে নিজের তাপেই অন্ধ হয়ে যাবে। তাই সূর্যের তাপ আটকাতে আছে পাঁচ স্তরের একটি সানশিল্ড, যার আকার প্রায় একটি টেনিস কোর্টের সমান। এর ফলে আয়নার দিকটি মাইনাস ২২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ঠান্ডা থাকে।

টেলিস্কোপটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে ‘দ্বিতীয় ল্যাগ্রাঞ্জ বিন্দু’ (L2)-এর চারপাশে ঘুরছে, যেখানে সূর্য, পৃথিবী আর চাঁদ সবসময় একই দিকে থাকে।

এখন পর্যন্ত কী দেখল ওয়েব?

  • বিগ ব্যাংয়ের মাত্র কয়েকশো মিলিয়ন বছর পরের ছায়াপথ।
  • দূরের গ্রহের বায়ুমণ্ডলে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন অণুর চিহ্ন।
  • নক্ষত্র জন্মের নীহারিকার অভূতপূর্ব বিস্তারিত ছবি।